[ourislambdSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

র‍্যাপ গানে সুর তুলে মাঠে আজারবাইজান নারী দল: ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে রোমাঞ্চকর পরিবেশ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
আজারবাইজান নারী ফুটবল দল
চিত্র: আজারবাইজান নারী ফুটবল দল ও ইনফিনিক্স ত্রিদেশীয় ফুটবল সিরিজ অনুশীলন সেশন

ঘড়িতে তখন বিকেল ৫টা বেজে ৫০ মিনিট। জাতীয় স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটে এসে থামল আজারবাইজানের টিম বাস। ঠিক সেই মুহূর্তেও মাঠের সবুজ ঘাসে অনুশীলনে পুরোপুরি ব্যস্ত মালয়েশিয়ার নারী ফুটবল দল। বাস থেকে নেমেই কোনো রকম সময় অপচয় না করে সোজা স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করল আজারবাইজান দল। তাদের প্রবেশ ছিল বেশ প্রাণবন্ত ও ভিন্নধর্মী; দলের এক খেলোয়াড়ের হাতে থাকা সাউন্ড বক্সে তখন উচ্চ শব্দে বাজছে র‍্যাপ সংগীত। সেই সংগীতের তালে তালে দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় কণ্ঠ মেলাচ্ছেন এবং খোشমেজাজে স্টেডিয়াম চত্বরে প্রবেশ করছেন।

মিনিট দশেক পার হতেই স্টেডিয়ামের পরিবেশ ও দৃশ্যে কিছুটা পরিবর্তন আসে। স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে মালয়েশিয়া দলের অনুশীলন শেষের প্রতীক্ষায় থাকতে দেখা যায় আজারবাইজান নারী ফুটবল দলকে। তাদের শারীরিক ভাষা ও গতিবিধি থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে, মাঠের দখল নেওয়ার জন্য তারা বেশ উন্মুখ এবং দাঁড়িয়ে থেকে কিছুটা বিরক্তও বটে। ইনফিনিক্স ত্রিদেশীয় ফুটবল সিরিজে আগামীকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে আজ যেন অনুশীলনের মাঠেই মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে দুই দল।

মাঠের দখল ও কোচের অস্বস্তি

মালয়েশিয়ার কোচ জোয়েল কর্নেলি হাত নেড়ে কিছু একটা বলতে চাইছিলেন। তাঁর অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি তাঁর দলবল নিয়ে মাঠে আরও কিছুক্ষণ অনুশীলন চালিয়ে যেতে চান। কিন্তু ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আজারবাইজানের উন্মুখ উপস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ের তাড়া যেন তাঁকে সেই সুযোগ দিচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সাতটা বাজতেই তড়িঘড়ি করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় মালয়েশিয়া দল।

অন্যদিকে, আজারবাইজানও বিন্দুমাত্র সময়ক্ষেপণ না করে পশ্চিম পাশের ডাগআউটে বসে অনুশীলনে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে নেয়। তখনো তাদের সাউন্ড বক্সে র‍্যাপ সংগীত বাজছিল। মাঠের মূল অনুশীলন শুরু হওয়ার পর গানের তালে তালে রানিং শুরু করেন আজারবাইজানের মেয়েরা। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে এই গান ও অনুশীলনের যৌথ রোমাঞ্চ। এরপর মাঠে দাঁড়িয়েই সংক্ষিপ্ত একটি টিম মিটিং সেরে নেন কোচ সিয়াসাত আসগারভ। অবশ্য মিটিং চলাকালে গানটি কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। মিটিং শেষ হতেই পুনরায় গান ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এর মাঝেই বল নিয়ে নিজেদের অসাধারণ কারিকুরি প্রদর্শন করেন কয়েকজন ফুটবলার। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৭টা ৩৫ মিনিটের পর গণমাধ্যমকর্মীদের আর তাদের অনুশীলন দেখার কোনো সুযোগ ছিল না।

আজারবাইজানের ফুটবলের অভাবনীয় উত্থানের গল্প

এমন আনন্দ ও প্রাণোচ্ছল পরিবেশ নিয়ে অনুশীলন করা আজারবাইজানের নারী ফুটবলের উত্থানের ইতিহাসটি বেশ রোমাঞ্চকর ও অনুপ্রেরণাদায়ক। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে দলটির। এরপর থেকে খুব বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ না করলেও তাদের উন্নতির গ্রাফটি অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অভাবনীয় উন্নতি করে ৫৫ নম্বর অবস্থানটি নিজেদের করে নেয় উয়েফার সদস্য এই দেশটি। যদিও বর্তমানে কিছুটা অবনমন ঘটে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান ৭৪ নম্বরে, তবুও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই।

অল্প সময়ের এই পথচলায় ইউরোপের ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে আজারবাইজান। ২০০৯ সালের ইউরো বাছাইপর্বে নাম লিখিয়েই তারা শক্তিশালী এস্তোনিয়াকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দেয়। এরপর ২০১১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বিশ্ব দেখেছে তাদের আরও বড় চমক; শক্তিশালী ওয়েলসকে হারানোর পাশাপাশি ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ড্র করে পয়েন্ট ভাগ বসায় তারা। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের কাছ থেকে মূল্যবান পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ার কৃতিত্ব দেখায় দলটি।

অধিনায়কের চোখে লড়াই ও পরিবর্তনের গল্প

আজারবাইজানের এই দীর্ঘ ও কঠিন পথচলার অবিচ্ছেদ্য অংশ দলটির অধিনায়ক সেভিঞ্জ জাফারজাদে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন এতটা পথ পাড়ি দিতে তাদের কতটা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অধিনায়ক সেভিঞ্জ জাফারজাদে বলেন, ‘আমি জানি আপনাদের (বাংলাদেশের) একটি ভালো দল আছে। এটা ভেবে আমি খুব খুশি যে আপনারা নারী ফুটবলের জন্য আন্তরিক চেষ্টা করছেন। কিছু মুসলিম দেশে এটা খুব কঠিন, মানসিকতা কিংবা নানা সামাজিক কাঠামোর কারণে। আমার দেশেও একসময় ঠিক একই রকম পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু এখন, আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছু সম্পূর্ণরূপে বদলে গেছে, কারণ আমরা ইউরোপে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল দিচ্ছি।’

তিনি আরও জানান যে তাদের দেশের ঘরোয়া লিগ ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ। অল্প সময়ের মধ্যে দলের এই দ্রুত অগ্রগতির নেপথ্যে সুসংগঠিত ঘরোয়া লিগ ব্যবস্থার অবদানও কম নয়। একটি ফুটবলীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য এই লিগই তাদের খেলোয়াড়দের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়তা করেছে।

আগামীকালের ম্যাচের প্রত্যাশা

ইনফিনিক্স ত্রিদেশীয় ফুটবল সিরিজের এই দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে আজারবাইজান দলের এমন ফুরফুরে মেজাজ ও আত্মবিশ্বাস তাদের প্রতিপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া দলও নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে। স্টেডিয়ামের ঘাসে দুই দলের এই রূদ্ধদ্বার ও প্রতিযোগিতামূলক অনুশীলনের দৃশ্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, আগামীকালের ম্যাচটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায়, যেখানে দুই দলের লড়াই নির্ধারণ করবে সিরিজের পরবর্তী ভাগ্য।

This theme has been developed by OURISLAMBD.

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন