মেসি-রোনালদোর ঐতিহাসিক দ্বৈরথ: ব্যালন ডি’অরের সর্বকালের সেরা ভোটাভুটিতে এগিয়ে কে?
ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চিরকালের সেরা কে—লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্টিয়ানো রোনালদো? এই বিতর্ক নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের যুক্তিতর্কের অন্ত নেই। তবে এবার সেই তর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর (Ballon d'Or) কর্তৃপক্ষ। পুরস্কারটির দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুরো ফুটবল বিশ্বে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।
ব্যালন ডি’অরের সর্বকালের সেরা ভোটাভুটি ও নতুন চমক
ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের কৌতূহল মেটাতে এবং ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অর বিজয়ী কে তা নির্ধারণ করতে শুরু হয়েছে বিশেষ বিশ্বব্যাপী ভোটাভুটি। আধুনিক ফুটবলের দুই বরপুত্র লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্টিয়ানো রোনালদো ছাড়াও এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের আরও ৮ জন অমর কিংবদন্তি। সবমিলিয়ে মোট ১০ জন কিংবদন্তির ব্যালন ডি’অর জয়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মৌসুমগুলোর মধ্য থেকে সেরা মৌসুমটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া এই রোমাঞ্চকর ভোটাভুটি চলবে প্যারিসের স্থানীয় সময় আগামী ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত। অংশগ্রহণকারীরা একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এমন ফুটবলারদের প্রতিটি পুরস্কারজয়ী মৌসুমের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট মৌসুমের পক্ষে রায় দিতে পারছেন।
তালিকাভুক্ত অন্যান্য অমর কিংবদন্তিরা
আধুনিক ফুটবলের মহাতারকাদের পাশাপাশি এই তালিকায় আরও যেসব ফুটবল দিকপালের নাম রয়েছে, তারা হলেন— ব্রাজিলিয়ান রোনালদো নাজারিও, ডাচ মাস্টার মার্কো ফন বাস্তেন, ফরাসি ফুটবলের বরপুত্র মিশেল প্লাতিনি, জার্মানির কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ এবং রিয়াল মাদ্রিদের স্প্যানিশ কিংবদন্তি আলফ্রেদো দি স্তেফানো।
এর মধ্যে ব্রাজিলিয়ান ফেনোমেনন রোনালদো ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে ব্যালন ডি’অর অর্জন করেছিলেন। অন্যদিকে মার্কো ফন বাস্তেন তিনবার— ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে এই মুকুট পরেছিলেন। ফরাসি জাদুকর মিশেল প্লাতিনি এবং ডাচ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফও তাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনবার করে এই সম্মানজনক পুরস্কার জিতেছিলেন।
ভোটাভুটির নিয়মকানুন ও বিশেষ অফার
এই অনলাইন ভোটের আয়োজনটি বেশ পেশাদার ও আকর্ষণীয় শর্তে পরিচালিত হচ্ছে। ভোটের অন্যতম প্রধান নিয়ম হলো, প্রতিটি ভোট প্রদানের জন্য অংশগ্রহণকারীকে এক ইউরো খরচ করতে হবে। তবে শুধু ভোট দেওয়াই নয়, এর বিনিময়ে ভোটারদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা।
ভোটদাতারা আগামী বছরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার বিশেষ ড্রয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি, ব্যালন ডি’অরের আইকনিক ও ঐতিহাসিক ছবিগুলো কিনে ডাউনলোড করার সুযোগও রাখা হয়েছে। একই ফুটবলারের পক্ষে একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় সমর্থকরা তাদের পছন্দের খেলোয়াড়কে এগিয়ে রাখতে বারবার ভোট দিচ্ছেন। এমনকি ভোটের লাইভ শতকরা হিসাবও রিয়্যাল-টাইমে দেখতে পারছেন অংশগ্রহণকারী দর্শকরা।
ভোটে এগিয়ে কে? রোনালদোর ২০০৮ বনাম মেসির ২০১২
প্রাথমিক ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সময়ের দুই মহাতারকার একটি নির্দিষ্ট মৌসুম নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০০৮ সালে জেতা ক্রিশ্টিয়ানো রোনালদোর ব্যালন ডি’অর সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। সেটির পক্ষে পড়েছে মোট ৬২ শতাংশ ভোট। তৎকালীন সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে অবিশ্বাস্য ছন্দে থাকা পর্তুগিজ যুবরাজ ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন, যা আজো ভক্তদের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
অন্যদিকে, ২০১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির জেতা ব্যালন ডি’অর পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট। ওই সময় আর্জেন্টাইন মহাতারকা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বছর কাটিয়েছিলেন। এক ক্যালেন্ডার বছরে রেকর্ড ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে তিনি বিশ্বজুড়ে ইতিহাস গড়েছিলেন এবং টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।
মেসির ভোট বিভক্ত এবং অন্যান্য মৌসুমের অবস্থান
বিশ্লেষকদের মতে, মেসির বিশাল সংখ্যক ব্যালন ডি’অর জয়ের কারণে তার সমর্থক ও ভোটগুলো তার আটটি ভিন্ন পুরস্কারজয়ী মৌসুমের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। ২০২২ সালে দুর্দান্ত কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৩ সালে পাওয়া ব্যালন ডি’অর রয়েছে জনপ্রিয়তার তালিকার ঠিক পরেই। ওই মৌসুমে পিএসজির হয়ে ফরাসি লিগ ও সুপার কাপ জয়ের পাশাপাশি ৪১ ম্যাচে ২১ গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি। সেই স্মরণীয় মৌসুমটির পক্ষে বর্তমানে পড়েছে ৯ শতাংশ ভোট।
অন্যদিকে, ক্রিশ্টিয়ানো রোনালদোর ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অর পেয়েছে ৭ শতাংশ এবং ২০১৬ সালের পুরস্কারের পক্ষে পড়েছে ২ শতাংশ ভোট। বাকি বিজয়ীদের মৌসুমগুলোর ক্ষেত্রে ভোটের হার ১ শতাংশের কাছাকাছি বা তারও কম রয়েছে।
এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের পথে মহাতারকারা
ব্যালন ডি’অরের এই লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠেও চলছে তাদের অমর দ্বৈরথ। ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের রোমাঞ্চকর মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্যে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছেন ফুটবলের এই দুই জীবন্ত কিংবদন্তি। বর্তমানে হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে দুজনেরই লক্ষ্য একটাই। পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৮০ ম্যাচে মেসির মোট গোলসংখ্যা ৯৩৬টি। অন্যদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্টিয়ানো রোনালদো ১ হাজার ৩৪০ ম্যাচে করেছেন ৯৮১টি গোল। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন এই দুই মহাতারকার ১০০০ গোলের সোনালী ঠিকানায় পৌঁছানোর ইতিহাসের দিকে।
This theme has been developed by OURISLAMBD.
Post a Comment