রাম্যা কৃষ্ণনের গোপন প্রেমের গুঞ্জন, গর্ভপাত ও ৭৫ লাখ টাকার দাবির গল্প কতটা সত্য?
দক্ষিণী সিনেমার পরিচিত মুখ রাম্যা কৃষ্ণন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় ও হিন্দি ভাষার বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে ‘বাহুবলি’ সিরিজে রাজমাতা শিবগামীর চরিত্রে অভিনয়ের পর তার পরিচিতি আরও ব্যাপক হয়।
তবে অভিনয়জীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাম্যা কৃষ্ণনের ব্যক্তিজীবন নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এর মধ্যে পরিচালক কে এস রবিকুমারের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক, গর্ভধারণ, গর্ভপাত এবং ৭৫ লাখ টাকা চাওয়ার দাবি নিয়ে তৈরি হওয়া গল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বিনোদনমহলে আলোচিত।
তবে এই প্রতিবেদনের শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—উল্লিখিত ঘটনাগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার মতো নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই। বিভিন্ন বিনোদনমাধ্যমে এগুলো দাবি বা গুঞ্জন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
কে এস রবিকুমারের সঙ্গে কীভাবে পরিচয়?
রাম্যা কৃষ্ণন ও পরিচালক কে এস রবিকুমারের পেশাগত পরিচয় বহু পুরোনো। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘Padayappa’-তে তারা একসঙ্গে কাজ করেন। সিনেমাটিতে রাম্যা কৃষ্ণনের অভিনীত নীলাম্বরী চরিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
এরপরও রবিকুমারের পরিচালনায় রাম্যা কৃষ্ণন একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন। দীর্ঘদিন একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার কারণে তাদের নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়।
সম্পর্ক নিয়ে কী দাবি করা হয়?
বিভিন্ন বিনোদন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে রাম্যা কৃষ্ণন ও কে এস রবিকুমারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। পরে সেই ঘনিষ্ঠতা নাকি ব্যক্তিগত সম্পর্কে রূপ নেয়। কিছু প্রতিবেদনে রবিকুমার বিবাহিত থাকা অবস্থায় এই সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।
তবে সম্পর্কের এমন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না দেখে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও দীর্ঘদিনের গুঞ্জন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের দাবি
এই গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো কথিত গর্ভধারণ ও গর্ভপাত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে রাম্যা কৃষ্ণন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় বলে ওইসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সন্তানের পরিচয় প্রকাশ বা দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে পরিচালক রাজি ছিলেন না। এর পরিণতিতে রাম্যা কৃষ্ণন নাকি গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন।
গুরুত্বপূর্ণ: গর্ভধারণ বা গর্ভপাতের দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
কেন আলোচনায় ৭৫ লাখ টাকা?
রাম্যা কৃষ্ণনকে ঘিরে এই পুরোনো গুঞ্জনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ৭৫ লাখ টাকার অঙ্কটি। কিছু বিনোদন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কথিত গর্ভপাতের জন্য অভিনেত্রী কে এস রবিকুমারের কাছে ৭৫ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। এমনকি ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলেও কোথাও কোথাও দাবি করা হয়েছে।
তবে এই দাবিরও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ৭৫ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টিও নিশ্চিত ঘটনা নয়।
রাম্যা কৃষ্ণনের ব্যক্তিজীবনে নিশ্চিত তথ্য
রাম্যা কৃষ্ণনের ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তিনি তেলুগু চলচ্চিত্র পরিচালক কৃষ্ণ বংশীকে ২০০৩ সালের জুনে বিয়ে করেন। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও তাদের বিয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
‘বাহুবলি’র শিবগামী হিসেবে নতুন পরিচিতি
ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও রাম্যা কৃষ্ণনের পেশাগত ক্যারিয়ার দীর্ঘ ও উল্লেখযোগ্য। ‘Padayappa’-এর নীলাম্বরী চরিত্র তার অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র। পরবর্তীতে এস এস রাজামৌলির ‘Baahubali: The Beginning’ ও ‘Baahubali 2: The Conclusion’-এ শিবগামী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পান।
অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন ও ওয়েবভিত্তিক কাজেও তাকে দেখা গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় বিনোদনজগতে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
গুঞ্জন বনাম নিশ্চিত তথ্য
রাম্যা কৃষ্ণন ও কে এস রবিকুমারকে ঘিরে কথিত সম্পর্ক, গর্ভধারণ, গর্ভপাত এবং ৭৫ লাখ টাকার দাবি বিভিন্ন সময় বিনোদনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে ঘটনাগুলোকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
অন্যদিকে রাম্যা কৃষ্ণনের কৃষ্ণ বংশীকে বিয়ে করার বিষয়টি সমসাময়িক সংবাদমাধ্যমে নথিভুক্ত। তাই পুরোনো এই গল্প নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে নিশ্চিত তথ্য এবং অযাচাইকৃত দাবির মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, রাম্যা কৃষ্ণনকে ঘিরে ৭৫ লাখ টাকা ও গর্ভপাতের গল্পটি দীর্ঘদিনের আলোচিত একটি বিনোদনজগতের গুঞ্জন। তবে বর্তমানে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে এটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
Post a Comment