[ourislambdSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
চিত্র: ডা. শফিকুর রহমান—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা।

ঢাকা: বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণ করছে এবং বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় আদায়ের দাবিতে বিরোধী দলের অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক এ আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট, সংসদীয় শপথ এবং সরকারি বরাদ্দে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ। এসব বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ ও মূল্যায়ন; সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সরকারি বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে সরকার’

বক্তব্যে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দল শুরুতে দেশের উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে সরকারকে সহযোগিতা করার কথা ভেবেছিল। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের সেই সহযোগিতা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার আগের স্বৈরাচারী শাসনের পথেই হাঁটছে। এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দল হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাশে থাকার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিএনপির অবস্থান পরিবর্তিত হলেও জামায়াত নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় আদায়ের দাবিতে তাঁদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট নিয়ে আপত্তি

জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতোই একটি দল ছিল। এরপর দলটি নিজেদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ভুলে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান একসময় কাছাকাছি ছিল। তাঁর দাবি, জামায়াত চেয়েছিল জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হোক, যাতে গণভোটের বিষয়টি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শফিকুর রহমানের মতে, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি ছিল। এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগে থেকে থাকা মতপার্থক্য ও বিতর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদনের সরবরাহ করা তথ্যে নেই। ফলে গণভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট বুঝতে উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে প্রশ্ন

সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

শফিকুর রহমানের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, গণভোটের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনের পথে যেতে হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বিরোধী দলকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে সংসদীয় শপথের আইনি ও সাংবিধানিক দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট বিধান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা এবং সংসদের আনুষ্ঠানিক নথি যাচাই করা জরুরি।

সরকারি বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ

সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে বলে জনগণ আশা করেছিল। পুরোনো রাজনৈতিক চর্চার পরিবর্তে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

বক্তব্যে পশুখাদ্য ও কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যয়ের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। মহিষের ওপর কর আরোপের উদাহরণ দিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে সমালোচনা করেন। এসব মন্তব্যের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি, বরাদ্দের ধরন এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দের অবস্থা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও বরাদ্দের তালিকা প্রয়োজন।

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন ঘোষণা

শফিকুর রহমান বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণ তাঁদের বিরোধী দলে বসিয়েছে। তাঁর দাবি, জামায়াতের ৮৯ জন সংসদ সদস্য দেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে কাজ করবেন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি পরিবর্তিত হলেও জামায়াত তাদের ঘোষিত অবস্থান পরিবর্তন করবে না। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় আদায়ের দাবিতে তাঁরা অটল থাকবেন। এ সময় বিরোধী দলের সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে বিরোধী দলের দায়িত্বকে শুধু সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও উঠে আসে। তাঁর মতে, সরকারকে সহযোগিতা করার বিষয়ে তাঁদের আগের অবস্থান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন।

‘নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে’

বক্তব্যের শেষাংশে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের অবস্থানে অটল থাকবে। তিনি বিরোধী দলকে হিমালয় পর্বতের মতো দৃঢ় থেকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে ‘নব্য ফ্যাসিবাদের’ পতন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রত্যাশা হিসেবে উঠে এসেছে।

শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা সরকারের ব্যর্থতা কামনা করেননি; বরং সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন, কারণ সরকারের সফলতাকে তিনি দেশের সফলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যথাযথ উদ্যোগ দেখাতে পারেনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে কী প্রভাব পড়তে পারে?

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। এসব প্রশ্নের সমাধান রাজনৈতিক সংলাপ, সংসদীয় আলোচনা এবং প্রযোজ্য আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কীভাবে এগোবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা, সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মূল্যায়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি নথিভিত্তিক তথ্য প্রকাশ হলে জনসাধারণের পক্ষে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

নবযুগের পর্যবেক্ষণ: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন, গণভোট এবং সরকারি বরাদ্দের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

This theme has been developed by OURISLAMBD.

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন